তাজা খবর
চট্টগ্রামে ৩৪৬ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

চট্টগ্রামে ৩৪৬ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

চট্টগ্রামে ৩৪৬ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তৈরি করা ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ’ শীর্ষক তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নুরুননবীর সই করা এক চিঠিতে সারা দেশের সঙ্গে চট্টগ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ঝুঁকিপূর্ণভবন চিহ্নিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭টি শিক্ষা থানায় ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন রয়েছে ১৭২টি। এর মধ্যে বাঁশখালীতে ৪৯টি, পটিয়ায় ১৭টি, আনোয়ারায় ৩২টি, বোয়ালখালীতে ২৮টি, চন্দনাইশে ৫টি, সাতকানিয়ায় ২১টি এবং লোহাগাড়ায় ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে।

অন্যদিকে উত্তর চট্টগ্রামের ৭টি শিক্ষা থানায় ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন রয়েছে ১৩৩টি। এর মধ্যে ফটিকছড়িতে ১৪টি, সীতাকুণ্ডে ৬টি, হাটহাজারীতে ১২টি, রাউজানে ৯টি, মিরসরাইয়ে ৪৮টি, রাঙ্গুনিয়ায় ৩৫টি এবং সন্দ্বীপে ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে।

এছাড়াও নগরের ৬টি শিক্ষা থানার মধ্যে পাহাড়তলীতে ৬টি, পাঁচলাইশে ৯টি, চান্দগাঁওয়ে ৭টি, কোতোয়ালীতে ২টি, ডবলমুরিংয়ে ৫টি এবং বন্দরে ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২ হাজার ২৬৯টি। এর মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১৭২টি, উত্তর চট্টগ্রামের ১৩৩টি এবং নগরের ৪১টিসহ মোট ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের সংখ্যা ৩৪৬টি। অর্থাৎ প্রতি ৬টি স্কুলের ১টি স্কুল ভবন শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রামের শতাধিক স্কুল ভবন এখন ব্যবহার অনুপযোগী। কিছু ভবনে জোড়াতালি এবং সংস্কার করে পাঠদান চললেও যে কোনো সময় সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় তালিকা চেয়েছে। আমরা পাঠিয়েছি। এখন তালিকা অনুযায়ী তারা সংস্কার বা ভেঙে নতুন ভবন তৈরির উদ্যোগ নিতে পারে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসরিন সুলতানা জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে বিভিন্ন থানা শিক্ষা অফিসকে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য দিতে বলি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে ৩৪৬টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা আমরা করেছি। রোববার (১২ মে) এ তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, ৩৪৬টি বিদ্যালয় ভবনের মধ্যে কিছু আছে অতি ঝুঁকিপূর্ণ। যেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। কিছু আছে সংস্কারের পর ব্যবহার করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*