তাজা খবর
বিবির হাটে ছোট গরুর কদর বেশি

বিবির হাটে ছোট গরুর কদর বেশি

সারা দিন রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা আকাশজুড়ে। তবে তাতে মন ডোবানোর সময় নেই কারও। কাদামাটি ভরা মাঠে কোরবানি পশুর দরদাম করতে বা দেখতেই ব্যস্ত সবাই।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিকেলে নগরের বিবির হাট গরু-ছাগলের বাজার ঘুরে দেখা মিললো এমন দৃশ্যের।

ব্যাপারীরা জানিয়েছেন, শুরুতে বিক্রি তেমন ভালো না হলেও শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় ক্রেতা সমাগম বেশ ভালো। তবে এ বছর বড় গরুর চেয়ে ছোট গরুর দিকেই বেশি ঝুঁকছেন ক্রেতারা।

কুমিল্লা থেকে বিবিরহাট গরুর বাজারে ১০ বছর ধরে গরু নিয়ে আসেন ব্যাপারী আসলাম মিয়া। তিনি বলেন, আগে দেখতাম শহরের সাহেবরা বড় গরু কিনতেই বেশি ভিড় করতেন। তবে এবার ছোট গরু কিনতেই বেশি লোকজন আসছেন।

বড় গরু যারা কেনেন, তারা এবার বিভিন্ন অ্যাগ্রো ফার্মের দিকেই ছুটছেন বলে দাবি এ গরু ব্যাপারীর।

বিবির হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আড়াই থেকে সাড়ে তিন মন ওজনের দেশি গরু ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার, চার মন থেকে পাঁচ মন ওজনের গরু ৭০ থেকে ৯০ হাজার, পাঁচ মন থেকে আট মন ওজনের গরু এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজারে বিক্রি হচ্ছে।

চাহিদা বাড়তি থাকায় বিক্রেতারা ছোট গরুর দাম তুলনামূলক বেশি দাবি করলেও বড় গরু তুলনামূলক কম দামেই মিলছে গরু-ছাগলের এ হাটে। দশ থেকে বারো মন ওজনের বেশি গরু মিলছে দুই লাখ থেকে আড়াই লাখে।

শুধু গরু নয়, ছাগলের বাজারেও ছিলো ক্রেতাদের ভিড়। তবে ছাগল কিনতে আসা অনেককেই দেখা গেছে কোরবানে উপহার হিসেবে দেওয়ার জন্যই ছাগল কিনতে এসেছেন তারা।

সদ্য বিয়ে দেওয়া মেয়েকে কোরবানে উপহার হিসেবে দিতে ছাগল কিনতে আসা আরিফুল ইসলাম বলেন, মেয়র বিয়ে হয়েছে ৪ মাস হলো। স্বামীর বাড়িতে তার প্রথম ঈদ। তাই রীতি অনুসারে তার জন্য ছাগল কিনতে এসেছি।

তিনি বলেন, ছাগলের দাম বেশিই হাঁকছেন বিক্রেতারা। আট কেজি ওজনের একটি ছাগলের দাম চাইছেন ১৫ হাজার টাকা!

খুলশী এলাকা থেকে বিবিরহাট গরুর বাজারে কোরবানির গরু কিনতে এসেছেন ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, ছেলের পছন্দ লাল রঙের দেশি গরু। আমার পছন্দও তাই। বাজার ঘুরে যে কয়েকটি পছন্দ হয়েছে, দাম শুনেই চোখ কপালে উঠার মতো অবস্থা। দাম অনেক বেশি।

ব্যাংক কর্মকর্তা ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, অফিসের কাজের চাপে গরুর বাজারে আসার সময় পাইনি। তাই ছুটির দিনেই এসেছি। দাম একটু বেশি হলেও পছন্দের গরুটিই নিয়েছি।

বিবিরহাট বাজারের ইজারাদার সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি বলেন, মাঠ ছোট হওয়ায় অনেক ব্যাপারী সড়কে, রেল লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে গরু বিক্রি করছেন। তবে সড়কে যাতে যানজট না হয়, সেজন্য কাজ করছেন আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দল। সব মিলিয়ে ভালো বেচাকেনা হচ্ছে এখানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*