তাজা খবর
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিতে পটিয়ার ইউএনওর চিঠি

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিতে পটিয়ার ইউএনওর চিঠি

চট্টগ্রামের পটিয়ায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিতে জনপ্রতিনিধিদের মাইকিং করার জন্য চিঠি ইস্যু করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল হাসান।

বুধবার ইস্যু করা ওই চিঠিতে উপজেলার একটি পৌরসভার মেয়র ও ১৭টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের এ আহ্বান জানানো হয়।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক, পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও থানার ওসি এবং কালারপোল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শককে চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, উপজেলার অনেক ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এবং পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী লোক রোহিঙ্গাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং তাদের ভোটার হতে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোহিঙ্গাদের কোনো অবস্থাই কোনো এলাকায় বা বসতঘরে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। যদি কোনো ব্যক্তি এলাকা বা নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের অবস্থানের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করতে অনুরোধ করা হয়।

উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ ইনজামুল হক জসিম বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিতে এলাকায় মাইকিং করার জন্য ইউএনও চিঠি ইস্যু করেছেন। তার ভিত্তিতে আমার ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিং করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান জানান, পটিয়ায় আসলে কতজন রোহিঙ্গা অবস্থান করছে, তা নির্ণয়ের জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মাইকিং করার জন্য চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে মাইকিং কার্যকর করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এরই মধ্যে প্রায় ইউনিয়নে মাইকিং শুরু হয়েছে।

জানা যায়, বর্তমানে উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কিছু লোভী ব্যক্তি এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে নতুন ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ নিচ্ছে। উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর মো. ফয়সাল ও ইউপি সদস্য ফেরদৌস বেগমের যোগসাজশে রোহিঙ্গা নারী আকলিমা মৃধা ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে জন্মসনদ ও জাতীয়তা সনদ নিয়েছেন। তাকে বড়লিয়ার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেখানো হয়েছিল। ভোটার তালিকার ছবি তুলতে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শাহীনুল ইসলাম শানু নিজেই হাতেনাতে ধরেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*