তাজা খবর
জঙ্গল বাড়িতে গ্রন্থাগার, ভূতের আনাগোনা!

জঙ্গল বাড়িতে গ্রন্থাগার, ভূতের আনাগোনা!

জ্ঞান বাড়ানোর জন্যই মানুষ লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগারে যায়। কিন্তু যেখানে জ্ঞান আহরণের জন্য যাবেন, সেখানে গেলে যদি অশরীরীর অনুভূতি হয়, তাহলে জ্ঞান আহরণ কি সম্ভব? এমনিতেই চারপাশে ঝোপঝাড়। তারই মধ্যে লতাপাতা জড়ানো একটি পুরোনো বাড়ি। দেয়াল ভর্তি শ্যাওলা। ছাদেও শেকড় গজিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বন-জঙ্গল।

cover-(1)

এমন গ্রন্থাগারের কথা কি কখনো শুনেছেন? শুনে না থাকলেও ঘটনা সত্যি। ভারতের পুরুলিয়ার ঝালদা অঞ্চলের একটি গ্রন্থারের এমনই অবস্থা। গ্রন্থাগার ভবনের একপাশে লোহার দরজা-জানালা। যেখানে দিনের বেলায়ও গা ছমছম করে। শরীরে কাঁটা দেয়। এমন ভুতুড়ে বাড়িতেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে টাউন লাইব্রেরি।

ঝালদা শহরের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারটি এভাবেই পেরিয়ে এসেছে তিন দশক। তবে যে কোন সময়ে এ বাড়ির কোন অংশ ভেঙে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ ঘরের ভেতরে পলেস্তরা খসে পড়ছে। ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান বই। নষ্ট হয়ে গেছে গ্রন্থাগারে থাকা তিনটি কম্পিউটর ও একটি ফটোকপি মেশিন।

cover-(1)

এমনকি এ গ্রন্থাগারে নেই কোন গ্রন্থাগারিক। তাছাড়া সহকারী গ্রন্থাগারিকের পদও খালি। নেই নৈশপ্রহরী, পিয়ন। একমাত্র বই বাঁধাইকর্মীই দেখাশোনা করেন। এ বিষয়ে পুরুলিয়ার জেলাশাসক রাহুল মজুমদার বলেন, ‘বিষয়টি দেখা হচ্ছে। পাঠকদের যাতে কোন সমস্যা না হয়, তা দেখছি।’

জানা যায়, ভবনটি পুরুলিয়া জেলা পরিষদের। একসময়ে ১৫ টাকা ভাড়ায় এ গ্রন্থাগার চলত। তবে এখন কোন ভাড়া লাগে না। নষ্ট হওয়ার পরও এখানে ১৫ হাজারের মতো বই রয়েছে। এখানকার সমস্যা হয়তো দিন দিন আরও বাড়বে। কোন দিন হয়তো সত্যিই সত্যিই এখানে মানুষের উপস্থিতির বদলে টের পাওয়া যাবে অশরীরীদের আনাগোনা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*