তাজা খবর
পেঁয়াজ মূল্যতালিকায় ৬০, বিক্রি ১১০ টাকা!

পেঁয়াজ মূল্যতালিকায় ৬০, বিক্রি ১১০ টাকা!

পেঁয়াজ সংকটকে পুঁজি করে একশ্রেণির অসাধু কমিশন এজেন্ট (আড়ত) ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে তারা। পাইকারি দোকানের মূল্যতালিকায় পেঁয়াজের দাম ৬০-৬৫ টাকা লিখে রাখলেও বাস্তবে বিক্রি করছে ১০০ টাকার বেশি দামে।

রোববার (৩ নভেম্বর) জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোগ্যপণ্যের বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে অভিযানে অভিনব এ কারসাজি ধরা পড়ে। র‌্যাব ও পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, মূল্যতালিকায় মিয়ানমারের পেঁয়াজের দাম ৬০-৬৫ টাকা লিখে রাখলেও বেশ কয়েকটি দোকানের হালখাতা পরীক্ষা করে দেখা যায়, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৯৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করেছে। সিলেটগামী একটি পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাকের চালানে দেখা যায়, অছি উদ্দিন ট্রেডার্স মূল্যতালিকায় মিয়ানমারের পেঁয়াজের দাম ৬০-৭০ টাকা লিখলেও সিলেটগামী ট্রাকের চালানে মূল্য লেখা ১১০ টাকা। প্রতারণামূলকভাবে মূল্য তালিকা থেকে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে অছিউদ্দিন ট্রেডার্সকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী ট্রাকে আড়ত থেকে মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১১০ টাকা দরে কিনে বোঝাই করা হচ্ছে। কিন্তু ওই আড়তে ভ্রাম্যমাণ আদালত মূল্য তালিকায় মিয়ানমারের পেঁয়াজের দাম ৬০-৬৫ টাকা দেখতে পান। দোকানে সংরক্ষিত কাগজপত্র পরীক্ষা করে মিয়ানমারের পেঁয়াজের দামে কারসাজি ও প্রতারণার প্রমাণ পাওয়ায় মেসার্স খাতুনগঞ্জ ট্রেডিংকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর পাশাপাশি সৌমিক ট্রেডার্স ও বেঙ্গল ট্রেডার্সকে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আমদানি মূল্যের চেয়ে মাত্রাতিরিক্তভাবে ১০০-১০৫ টাকা কেজি প্রতি দরে বিক্রি করায় ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানের পর মিয়ানমারের পেঁয়াজ তাৎক্ষণিকভাবে কেজি ৭০-৭৫ টাকায় নেমে আসে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের খবর পেয়ে মিয়ানমারের পেঁয়াজ নিয়ে নতুন উপায়ে কারসাজির সঙ্গে জড়িত কমিশন এজেন্টরা গা ঢাকা দিয়ে মার্কেট থেকে পালিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*