তাজা খবর
নারীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা

নারীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা

পাওনা টাকা পরিশোধ না করে এক নারীকে উল্টো ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন নয়ন ভট্টাচার্য প্রকাশ মাসুদ রানা (৩০) নামে এক যুবক।

সোমবার (০৪ নভেম্বর) বাকলিয়া থানার রাহাত্তারপুল শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটির এমএস টাওয়ার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার নয়ন ভট্টাচার্য প্রকাশ মাসুদ রানা রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া পথেরহাট এলাকার স্বপন ভট্টাচার্যের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, পাওনা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন নয়ন ভট্টাচার্য প্রকাশ মাসুদ রানা নামে এক প্রতারক। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী নারী ও পুলিশ বাদি হয়ে পৃথক মামলা দায়ের করেছে।

ওসি মো. নেজাম উদ্দিন জানান, নয়ন ভট্টাচার্য একজন প্রতারক। নয়নের সঙ্গে ভুক্তভোগী ওই নারীর পরিচয় সাড়ে তিন বছর ধরে। আদালতে নিজের নাম মাসুদ রানা উল্লেখ করে ওই নারীর সঙ্গে বৈবাহিক সর্ম্পক রয়েছে বলে একটি এফিডেভিট করেন। দীর্ঘদিন ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও করেন। এ সময় ওই নারীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নেন নয়ন ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে নয়নের প্রতারণা বুঝতে পেরে ওই নারী স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা ফেরত চান। নয়ন ভট্টাচার্যও টাকা ফেরত দিতে রাজি হন। রোববার (৩ নভেম্বর) ওই নারীকে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল নয়ন ভট্টাচার্যের। সকালে ওই নারীর বাসায় যান নয়ন ভট্টাচার্য। এ সময় বাসায় নাস্তাও খান তিনি। পরে চলে আসার সময় ওয়ারড্রবের ড্রয়ারে ২৯০ পিস ইয়াবা রেখে চলে আসেন। পরে বাকলিয়া থানা পুলিশকে নয়ন ভট্টাচার্য খবর দেন শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটির এমএস টাওয়ারের একটি বাসায় ইয়াবা রয়েছে। পুলিশ নয়ন ভট্টাচার্যকে নিয়ে ওই বাসায় ইয়াবা উদ্ধারে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পুলিশ ইয়াবা খুঁজে না পাওয়ায় চলে আসতে চায়। তখন নয়ন ভট্টাচার্য নিজে ওয়ারড্রবের ড্রয়ার খুলে ২৯০ পিস ইয়াবা বের করে দেয়।

ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, পুলিশ ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সন্দেহ হওয়ায় নয়ন ভট্টচার্যকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে নিজে ইয়াবা রেখে ফাঁসানোর চেষ্টার কথা স্বীকার করে নয়ন ভট্টাচার্য।

পুলিশ জানিয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী ওই নারীর সঙ্গে তার স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। পরে তিনি তার সন্তান নিয়ে থাকতেন। ২০১৭ সালে মাসুদ রানার (নয়ন ভট্টাচার্য) সঙ্গে পরিচয় হয়। ওই নারীর সম্পত্তি ও টাকা আত্মসাতের লক্ষে নয়ন ভট্টাচার্য তার পরিচয় গোপন রেখে মাসুদ রানা নামে বিয়ের ভুয়া এফিডেভিট তৈরি করে একসঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন। নয়ন ভট্টাচার্য বিবাহিত ও তার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। নয়ন ভট্টাচার্যের স্ত্রী-সন্তান রাউজান নোয়াপাড়ায় থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*