তাজা খবর
শ্বাসকষ্ট রোগীর ডেঙ্গু হলে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে

শ্বাসকষ্ট রোগীর ডেঙ্গু হলে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। আর যদি হাঁপানি, সিওপিডি বা আইএলডি-র মতো ফুসফুসের অসুখ থাকলে যদি ডেঙ্গুজ্বর হয় তবে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে।কারণ হাঁপানি রোগীদের ডেঙ্গু হলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।

সময়ের সঙ্গে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বদলে যাচ্ছে ডেঙ্গুর উপসর্গ। ডেঙ্গুজ্বর অনেক সময় মারাত্মক সমস্যা ডেকে আনে। এ সময় দ্রুত চিকিৎসা না নিলে ভয়াবহ বিপদ হতে পারে। ডেঙ্গুর আক্রমণ হলে ফুসফুসের জটিলতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই শুরুতেই সাবধান হতে হবে। হাঁপানি, সিওপিডি বা আইএলডি-র মতো ফুসফুসের ক্রনিক অসুখ থাকলে জ্বর হলেই সতর্ক হন।

তাই সর্দি-কাশি, কাশির দমকে বুকে ব্যথা, কফ ওঠা এবং শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে হবে।

ডেঙ্গু ভাইরাসের সঙ্গে নিউমোনিয়ার জীবাণুর সংক্রমণ হলে রোগীর অবস্থা সঙ্গীন হয়ে পড়ে। ডেঙ্গু জ্বরে প্লেটলেট কাউন্ট কমতে শুরু করায় শরীরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে সিভিয়ার ডেঙ্গু হলে ক্যাপিলারি (রক্তজালিকা) লিকেজ হয়ে ফুসফুসের অ্যালভিওলাইতে পানি জমতে পারে।

এ সময় পানি জমার কারণে রোগীর ভয়ানক শ্বাসকষ্ট হয়। বিশেষ করে যাদের ক্রনিক ফুসফুসের অসুখ আছে তাদের এই অসুবিধার আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় বেশি। এই সময়ে রেসপিরেটরি ফেলিওর, অর্থাৎ রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা ভীষণ ভাবে কমে যায়। এই অবস্থায় রোগীকে সাময়িক ভাবে ভেন্টিলেটরে রেখে স্থিতিশীল না করলে বিপদের আশঙ্কা প্রতিপদে।

কী করবেন?

১. জ্বর হলে শুধুমাত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাবেন। এই জ্বরে শরীরে ও মাথায় খুব ব্যথা করে। কিন্তু ভুলেও ব্যথার ওষুধ খাবেন না।

২. এলাইজা পদ্ধতিতে রক্ত পরীক্ষা করে জেনে নিতে হবে ডেঙ্গু হয়েছে কি না।

৩. শুরু থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলতে হবে।

৪. প্রচুর পানি ও জলীয় খাবার খেতে হবে। তবে ফলের রস, প্যাকেটজাত ফ্রুট জুস নয়।

৫. ডেঙ্গু-সহ যে কোনও জ্বর হলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। খেয়াল রাখুন যাতে রোগীর শরীরে পানি মাত্রা কমে না যায়।

৬. রোগীকে আলাদা করে মশারির মধ্যে রাখা দরকার। যাতে মশা কামড়ে রোগটা আরও ছড়িয়ে দিতে না পারে।

৭. প্রবীণদের নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন দিয়ে দেওয়া দরকার। বিশেষ করে ক্রনিক ফুসফুসের অসুখ থাকলে টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*