তাজা খবর
সমাবর্তন উপলক্ষে বর্ণিল রূপে সজ্জিত চুয়েট

সমাবর্তন উপলক্ষে বর্ণিল রূপে সজ্জিত চুয়েট

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চতুর্থ সমাবর্তন বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সমাবর্তনে অংশ নিতে আসা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার থেকেই মুখরিত হয়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. এ.কে. আজাদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম।

এবারের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গত চার বছরের সর্বোচ্চ সিজিপিএধারী ৪ জনকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক’ দেওয়া হবে। তারা হলেন- ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ই.এম.কে. ইকবাল আহামেদ, একই বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রুবায়া আফসার, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সঞ্চয় বড়ুয়া এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাশেদুর রহমান। এ ছাড়া সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ২ হাজার ১৪৮ জন গ্র্যাজুয়েট এবং ৮৩ জন পোস্ট-গ্র্যাজুয়েটসহ মোট প্রায় ২ হাজার ২৩১ জন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সমাবর্তন ডিগ্রি দেওয়া হবে। ২০১২সালের অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারীরা সমাবর্তনে অংশ নেবেন।

সমাবর্তন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের প্রস্তুতি একেবারেই শেষ পর্যায়ে। গ্র্যাজুয়েটদের বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে কয়েকদিন আগে থেকেই বর্ণিল রূপে সাজিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চুয়েটের একাডেমিক ভবন, ক্যাম্পাস এবং অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো সাজানো প্রায় শেষ। ক্যাম্পাসে অভ্যন্তরীণ ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হয়েছে। সড়কের পাশের গাছগুলোতে সাদা-লাল রংয়ের আলোকছটায় চিরচেনা রুপে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। যা সমাবর্তন ও সুবর্ণজয়ন্তীর আবেশকে বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে এখনই বিভিন্ন আলোকসজ্জা শোভা পাচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে যেন উৎসবের আমেজ বিরাজমান।

সমাবর্তন উপলক্ষে নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম নগরী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শোভাবর্ধন করা হয়েছে।

বুধবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মঞ্চ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ।

সমাবর্তন ঘিরে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ জোরদার করা হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স, পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্তকাবস্থানে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত প্রবেশে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের দিন ক্যাম্পাসজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে জানা যায়।

সমাবর্তনের সার্বিক বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাষ্ট্রপতি ক্যাম্পাস থেকে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আবাসিক হলগুলোর ফটক বন্ধ থাকবে।এ সময় শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থান করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*