তাজা খবর
মহামায়ার মায়ায় কেটে গেল একদিন

মহামায়ার মায়ায় কেটে গেল একদিন

ছোট-বড় পাহাড়ের মাঝে লেক। ঝরনাও রয়েছে একটি। এ যেন লেক, পাহাড় ও ঝরনার দারুণ প্যাকেজ! বলছিলাম মহামায়া লেকের কথা! চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের এই লেক যেন এক মায়াজাল, একবার গেলেই বারবার আসতে মন টানবে। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি পুরো এলাকাটি। চমৎকার এই লেকটি ১১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে। আমাদের ফেলে আসা তপ্ত দুপুরের শেষভাগে এই লেকটি হয়ে উঠেছিল চোখ এবং মনে প্রশান্তির বাহক।

ভ্যাপসা গরমেও এই লেকের পানি বেশ টলমলে ও শীতল। পুরো লেক জুড়েই ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়, পাহাড়ি গুহা এবং ঝরনা। এখানে কায়াকিং করার দারুণ ব্যবস্থা রয়েছে। মহামায়া লেকে কায়াকিং এর মজার অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন পুরো আট কিলোমিটার। চারিদিকে সবুজের চাদরে মোড়ানো অথৈ জলে নিজেই চালাবেন নৌকা- এমন অ্যাডভেঞ্চার নিশ্চয়ই কেউ মিস করতে চাইবেন না।

নৌকায় চড়ার আগে কিছু নিয়ম পালন করতে হয়। ইজারাদারের দেয়া লাইফ জ্যাকেট পরে নেয়া আবশ্যক। এটা ছাড়া কায়াকিং করতে দেয়া হয় না। যেখান থেকে কায়াকিং শুরু হবে, সেখানেই শেষ করতে হবে। অন্য কোথাও থামালে গুনতে হবে জরিমানা। জানা গেল, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং এলাকার মানুষের সুবিধার জন্যই এ নিয়ম করা। এ ছাড়া কীভাবে নৌকা চালাতে হবে, তার নির্দেশনাও দিয়ে দেয়া হয় ভালোভাবে।

প্যাডেল নৌকাতেও নিজেদের মতো করে ঘুরতে পারবেন। পাশাপাশি ছোট, বড় নানা আকৃতির নৌকাতেও ঘুরতে পারবেন লেকে। জলের কাছাকাছি এসে এই লেকের সৌন্দর্য ভালোভাবেই টের পাওয়া যায়। এই লেকটির নাম ‘মহামায়া’ হওয়ার স্বার্থকতা এখানেই। আমরা প্রচণ্ড মায়ায় সত্যিই হারিয়ে যাচ্ছিলাম। পাহাড়ের পাশঘেঁষে বয়ে চলা নৌকায় বসে পুরো সৌন্দর্যে একেবারে ডুবে যাচ্ছিলাম। সকাল থেকে বহু পথ হেঁটে ট্রেকিং করে আসার ক্লান্তি নিমেষে মিইয়ে দেয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে এই প্রকৃতির, তা খুব করে টের পেলাম। সবুজে মোড়ানো পাহাড়, অদ্ভুতভাবে আকৃষ্ট করা পাহাড়ি গুহাগুলো, লেকের টলটলে জলে মেশা আকাশের নীল আর সাদায় অদ্ভুত এক ঘোর জাগানো সৌন্দর্যের মিশেল তৈরি হয়েছিল যেন!

মহামায়া লেক

মহামায়া লেক

স্বচ্ছ জল থৈ থৈ চারদিকে। ফাঁকে ফাঁকে সবুজ পাহাড়ের ভাঁজ। এরমধ্যে নৌকায় আধা ঘণ্টা চলার পর আমাদের নামিয়ে দেয়া হলো একটি পাহাড়ে। জানলাম এখান থেকে হেঁটে একটু সামনে গেলেই ছোট্ট একটি ঝরনা রয়েছে। আমাদের মতো আরো কিছু নৌকা এসে ভিড়লো এই একই স্থানে। একটু হেঁটে যেতেই ছোট্ট ঝিরিপথ, এরপর দূরের ছোট্ট ঝরনাটি। এখন ছোট মনে হলেও প্রচণ্ড বৃষ্টির সময় এর জলের ধারা খুব বেড়ে যায়, মাঝি বললো সে কথা।

এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আরো অসংখ্য নৌকাকে তোয়াক্কা না করে আমাদের নৌকাটি ফেরার পথ ধরলো। নিজেরা প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গেলেও সময়ের তাড়াটা ঠিক টের পাচ্ছিল মাঝি ছেলেটি। সে বললো, আরেকবার আসলে কায়াকিং করতে। সেখানকার লোকরাই শিখিয়ে দেয় কিভাবে কায়াকিং করতে হয়। যার কারণে চালাতে তেমন বেগ পেতে হয় না। বিষয়টাতে দারুণ অ্যাডভেঞ্চার রয়েছে।

নৌকায় ঘোরা শেষে আমরা লেকের পাড়ে বসে বিকেলটিকে হারিয়ে যেতে দেখলাম। একে অন্যের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। লেকের পাড়ের শীতল বাতাসে সন্ধ্যার গন্ধ ছড়াতেই সবাই উঠে পড়লাম। মিরসরাই থেকে সীতাকুণ্ডের হোটেলে ফেরার পথ ধরলাম। অনেকটুকু প্রাকৃতিক প্রশান্তি ভেতরে নিয়ে আমাদের ফেরার পালা দেয়াল ভর্তি শহরে।

যাওয়া ও খাওয়া

ঢাকা-চট্টগ্রামের যেকেনো বাসে করে সরাসরি নামতে হবে চট্টগ্রামের মিরসরাইতে। সেখান থেকে সিএনজি চালিতে অটো রিকশা কিংবা হিউম্যান হলারে করে আসতে পারবেন লেকে। অটোরিকশায় ভাড়া পড়বে একশ’ টাকা। এছাড়া লোকাল চলাচলরত হিউম্যান হলারে চড়ে যেতে পারেনে। ভাড়া পড়বে ১০ টাকা। লেকে ঘুরতে এসে দিন শেষে ফিরে গেলেই ভালো। কারণ মিরসরাইতে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও থাকার তেমন ভালো থাকার ব্যবস্থা নেই। থাকতে হবে চট্টগ্রাম অথবা পাশের জেলা শহর ফেনীতে। এ দুই শহরেই রয়েছে থাকার মত ভালো হোটেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*