তাজা খবর
আনোয়ারায় হচ্ছে ৫৯০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র

আনোয়ারায় হচ্ছে ৫৯০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র

আনোয়ারায় হচ্ছে ৫৯০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র

৫৯০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হতে যাচ্ছে আনোয়ারায়। এলএনজিনির্ভর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. (কেজিডিসিএল) এর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এটি নির্মাণে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে ইউনাইটেড গ্রুপ। কেন্দ্রটি নির্মিত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়বে পিডিবির।

সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারার পারকি এলাকায় বর্তমান ৩০০ মেগাওয়াট ইউনাইটেড পাওয়ারের পাশেই ইউনাইটেড চট্টগ্রাম পাওয়ার লিমিটেডের জন্য প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পিডিবি ও কেজিডিসিএলের সাথে চুক্তির প্রক্রিয়াও শুরু করেছে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড গ্রুপ। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুরোধে প্রকল্প স্থান পরিদর্শন করেছে জ্বালানি বিভাগের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস। প্রকল্প স্থান পরিদর্শন করে গ্যাস সরবরাহের জন্য সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করছে কেজিডিসিএল। এর আগে গত বছরের ২২ জুন ওই স্থানে নির্মিত ৩০০ মেগাওয়াট ইউনাইটেড আনোয়ারা পাওয়ার প্ল্যান্ট বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড প্রায় ১ হাজার ৯২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

জানা গেছে, ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কো. লিমিটেড, জাপানি প্রতিষ্ঠান কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোং ইনকর্পোরেশন এবং সোজিৎজ কর্পোরেশন যৌথভাবে এলএনজিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ইউনাইটেড চট্টগ্রাম পাওয়ার লি. প্রজেক্টটিতে প্রায় ৫০১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে পিডিবি ও কর্ণফুলী গ্যাসের সাথে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শেষ হয়েছে। আশা করছি আগামী মার্চের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হবে। চুক্তি হওয়ার ৩৬ মাসের মধ্যেই প্ল্যান্ট নির্মাণ শেষ করা হবে। এ বিষয়ে কেজিডিসিএলের জেনালের ম্যানেজার (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) প্রকৌশলী সারওয়ার হোসেন বলেন, আমরা এলএনজিনির্ভর ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্ট লি. এর প্রজেক্ট স্পট পরিদর্শন করেছি। এখন জ্বালানি বিভাগের অনুমোদন পাওয়া গেলে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের রুট চিহ্নিত করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হবে।

পিডিবির আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট) সেলের প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, আনোয়ারার পারকিতে ৫৯০ মেগাওয়াট সক্ষমতার আরেকটি পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণে প্রস্তাবনা দিয়েছে ইউনাইটেড গ্রুপ। প্রাথমিক আলোচনাও শেষ হয়েছে। নতুন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি হলে পিডিবির সক্ষমতা আরো বাড়বে। এই কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ চট্টগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করা হবে।

প্রসঙ্গত, বঙ্গোসাগরের মোহনা থেকে শুরু করে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে নির্মিত ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১০৮ মেগাওয়াট ইসিপিভি পাওয়ার প্ল্যান্ট, ১০৫ মেগাওয়াট বারাকা শিকলবাহা পাওয়ার, ১১০ মেগাওয়াট বারাকা কর্ণফুলী, ৫৪ মেগাওয়াট জোডিয়াক পাওয়ার, ২২৫ মেগাওয়াট শিকলবাহা রিসাইকেল পাওয়ার, ১৫০ মেগাওয়াট শিকলবাহা পিকিং পাওয়ার, ১০০ মেগাওয়াট জুলধা-ওয়ান, ১০০ মেগাওয়াট জুলধা-থ্রি, ৩০০ মেগাওয়াট ইউনাইটেড আনোয়ারা এবং ৫০ মেগাওয়াট বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার উৎপাদনে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*