তাজা খবর
জেএমবির সেই মামলায় সাক্ষ্য দিতে কেউ আসেনি

জেএমবির সেই মামলায় সাক্ষ্য দিতে কেউ আসেনি

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজার এলাকার আবাসিক ভবন থেকে অস্ত্র, গোলা-বারুদ ও সেনা কর্মকর্তাদের পোশাকসহ জেএমবির সদস্যদের আটকের মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও কোন সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। মামলার বিচারকাজ শুরুর হওয়ার বিষয়টি সাক্ষীরাই জানেন না।

এর আগে ২২ ডিসেম্বর ছিল প্রথম দিন। সেদিনও কোনও সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের আদালতে বিচারাধীন।

এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলী এডভোকেট মনোরঞ্জন দাশ জানান, এ পর্যন্ত এই মামলায় কোনও সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। সাক্ষী হাজিরের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আরও উদ্যোগী হবে।

আলোচিত এই মামলার সাক্ষী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার বলেন, ‘সাক্ষ্যগ্রহণের সময়সূচি আমার হাতে পৌঁছায়নি। দিনক্ষণ জানলে তো অবশ্যই সাক্ষ্য দিতে যেতাম। সামনের তারিখের আগে সমন হাতে এলে যাবো।’

মামলার চার নম্বর সাক্ষী পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার বিচার কাজ শুরু হওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। সাক্ষী উপস্থিত হওয়ার কোনও নোটিশ আমি পাইনি। পেলে তো অবশ্যই সাক্ষ্য দিতে হাজির হবো।’

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, এক নম্বর সাক্ষী মামলার বাদী ফররুখ আহমেদ মিনহাজ, দ্বিতীয় সাক্ষী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার, তিন নম্বর সাক্ষী পুলিশ কর্মকর্তা আবদুর রহীম, চার ও পাঁচ নম্বর সাক্ষী পিবিআইতে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা ও ওয়ালি উদ্দিন আকবর। এছাড়া আরও ১১ জনসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর হাটহাজারীর সেই জঙ্গি আস্তানা থেকে নগর গোয়েন্দা পুলিশ স্নাইপার রাইফেল, সেনা পোশাকসহ বিপুলসংখ্যক গুলি ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছিল। আটক করা হয়েছিল কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার পূর্ব সাঞ্জুয়ারভিটা এলাকার মাজহারুল আলীর ছেলে নাইমুর রহমান প্রকাশ নয়ন (২৫), নোয়াখালী জেলার সেনাবাগ থানার উত্তর মোহাম্মদপুর এলাকার মৃত ছায়েদুল হকের ছেলে ফয়সাল মাহমুদ (২৬) ও কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানার গটিঢাঙ্গা চেয়ারম্যান বাড়ির নুরুল আমিনের ছেলে মোহাম্মদ শওকত রাসেল (২৬) নামের তিন যুবককে। তারা তিনজনই তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের স্নাতকোত্তর বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। সেই আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র এমকে-১১ দিয়ে প্রায় এক মাইল দূরে থাকা শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করা যায়।

মূলত ৫ অক্টোবর ২০১৫ কর্ণফুলী থানাধীন খোয়াজনগর এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ গুলি, অস্ত্র, গ্রেনেড ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ৫ জন আটক হয়েছিল গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক বাহিনীর প্রধান জাবেদকে ওই ঘটনায় গ্রেফতারের পর ৬ অক্টোবর সকালে কুয়াইশ এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে গিয়েছিল গোয়েন্দা টিম। সেখানে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জেএমবির সদস্যরা তাকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বোমা বিস্ফোরণে মারা যায় জাবেদ। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদেই উঠে এসেছিল হাটহাজারীর সেই আস্তানার তথ্য।

সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের তৎকালীন এডিসি বাবুল আকতারের নেতৃত্বে হাটহাজারী থানার আমানবাজার এলাকার জয়নব কলোনির ইসহাকের মালিকানাধীন সেই দ্বিতল ভবনে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন এসআই সন্তোষ কুমার চাকমা, শরীফুল ইসলাম, আফতাব, রাজেশ বড়ুয়া, মিনহাজ ও এএসআই আজমীর শরীফসহ ২০ জনের একটি টিম।

হাটহাজারীর সেই আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল এমকে-১১ নামের অটোমেটিক স্নাইপার রাইফেল। রাইফেলের দুটি ম্যাগজিন, ২৫০ রাউন্ড গুলি, ৫ কেজি ওজনের বিস্ফোরক জেল, ১০ ডেটোনেটর, বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম, সেনাবাহিনীর ১২ সেট পোশাক, একজোড়া র‌্যাংকস ব্যাজ, রফিক নামের একটি ব্যাজ, জিহাদী বই, জেএমবি সংগঠনের কলাকৌশলের নানা কাগজপত্র ও দুটি কম্পিউটার প্রিন্টার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*