তাজা খবর
হাতে বানানো ব্যাট দিয়েই শাহাদাতের পথচলা

হাতে বানানো ব্যাট দিয়েই শাহাদাতের পথচলা

ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুতে হাতে বানানো ব্যাট দিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলের খেলোয়াড় শাহাদাত হোসেন দীপুর। বিকেএসপি’র ট্রায়ালে অংশ নিতে হাতে তৈরি কাঠের ব্যাট নিয়ে গিয়েছিলেন মাঠে। ট্রায়ালেই সুনজরে পড়েছেন বিকেএসপি’র এক শিক্ষকের। পরে অবশ্য দু’দফা ক্যাম্প শেষে বাদ পড়তে হয় তাকে। কিন্তু ক্রিকেটার হওয়ার বাসনা পূরণে পাশে এসে দাঁড়ালেন পাড়ার বড় ভাই সুদীপ্ত। তাকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করিয়ে দিলেন চট্টগ্রামের ইস্পাহানী ক্লাবে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) তরুণ এই ক্রিকেট তারকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই সারাদিন ক্রিকেট নিয়ে মেতে থাকত শাহাদাত হোসেন দিপু। এ কারণে পড়ালেখায় তেমন মনোযোগ দেওয়া হয়ে ওঠেনি তার। ২০১৯ সালে নগরীর দামপাড়া মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ইংরেজি বিষয়ে খারাপ করে শাহাদাত। পরে চলতি বছর ওই বিষয়ে আবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি ক্রিকেট বয় শাহাদাতের।

শাহাদাতের বড় ভাই আবুল হোসেন জানান, তাদের তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে শাহাদাত হোসেন দিপু সবার ছোট। তিন বোনের ইতোমধ্যেই বিয়ে হয়ে গেছে। এছাড়া তিনি একটি মেডিকেলে ড্রাইভিং পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

তরুণ এই ক্রিকেট তারকার মা ফেরদৌস বেগম জানান, আমার শ্বশুরবাড়ি পটিয়া উপজেলার হাবিলাস দ্বীপ ইউনিয়নের চরকানায় গ্রামে। স্বামী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকরির সুবাদে আমরা পুরো পরিবারসহ ১৯৮৩ সালে এখানে ভাড়া বাসায় চলে আসি। এরপর থেকে এখানেই বসবাস করে আসছি। তবে বিভিন্ন উৎসব ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে নগরীর কাতালগঞ্জ-ওয়াপদা গলিতে একটি ভাড়া বাসায় থাকি। ২০১০ সালে শাহাদাতের পিতা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এরপর ২০১২ সাল থেকে শাহাদাত হোসেন দিপু ক্রিকেটের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। রাত-দিন ক্রিকেট নিয়েই মেতে থাকে সে। পরে নগরীর কাজির দেউড়ি ইস্পাহানি ক্রিকেট একাডেমিতে অনুশীলন শুরু করে। এভাবেই একজন ক্ষুদে ক্রিকেটার হয়ে উঠে সে।

ফেরদৌস বেগম বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে শাহাদাত চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ঢাকার উদ্দেশে বাসা থেকে বিদায় নেয়। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে। এখন অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের জয়ে পুরো দেশ আনন্দে ভাসছে। এই দলের একজন গর্বিত খেলোয়াড় আমার ছেলে। বর্তমানে দিপু শুধু আমার ছেলে নয়, সারা বাংলাদেশের ছেলে। আমি তার জন্য ও দেশের জন্য দোয়া করি। সবাই যেন আগামীতে আরও এগিয়ে যেতে পারে।’

উল্লেখ্য, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে কোনো ম্যাচই হারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচে বৃষ্টির কারণে ফল হয়নি। বাকি সবগুলো ম্যাচই জিতেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ।

‘সি’ গ্রুপে তিন প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে, স্কটল্যান্ড ও পাকিস্তান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে জয় আসে ৯ উইকেটে। এরপর স্কটল্যান্ড উড়ে যায় ৭ উইকেটে। সেই ম্যাচে স্পিনার রাকিবুল হাসান হ্যাটট্রিক করেন। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ওই সময় বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয় ম্যাচটি। সবশেষে নীট রান রেটে এগিয়ে থেকে আকবর-শামীমরা হয় গ্রুপের সেরা দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*