তাজা খবর
বসন্ত-ভালোবাসায় ৩৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রির স্বপ্ন

বসন্ত-ভালোবাসায় ৩৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রির স্বপ্ন

বিশেষ দিনগুলোতে বেড়ে যায় প্রাকৃতিক ফুলের চাহিদা। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) উদযাপিত হবে বসন্ত উৎসব ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এবছর দিবস দুটি একইদিনে হওয়ায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা প্রাকৃতিক ফুল বিক্রি করে লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন বলে আশা করছেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠান থেকে ফুল কেনার আগাম বায়না করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফুল ব্যবসায়ীরা।

নগরের মোমিন রোড ও চেরাগী পাহাড় এলাকায় গড়ে ওঠা ছোট-বড় ৬২টি ফুলের দোকানে আগের সংগ্রহে থাকা ফুল অনেকটা সস্তায় বিক্রি করে দিয়ে জায়গা খালি করছেন দোকানিরা। কারণ জানতে চাইলে স্টার পুষ্প বিতানের মালিক মো. আবদুল মাবুদ বলেন, নতুন ফুল আসার আগেই জায়গা খালি করতে হচ্ছে। বছরের অন্যান্য দিনগুলোতে প্লাস্টিক ফুল কিনলেও ভালোবাসা দিবসে সবাই প্রিয়জনকে দিতে চায় তাজা গোলাপ, বসন্ত উৎসবে যোগ দিতে খোপায় বাঁধে গাঁদা ফুল।

চট্টগ্রাম ফুল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জসিম বলেন, বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফুল এসে পৌঁছাবে শহরে। চট্টগ্রামের চাষিদের কাছ থেকে ৪০ শতাংশ ফুলের যোগান আসে। আর ৪০ শতাংশ ফুল আসে ঢাকা ও যশোরের চাষিদের কাছ থেকে। যশোর থেকে আসে উন্নতজাতের রজনীগন্ধা, গাঁদা ও গ্লাডিওলাস। চট্টগ্রামের চকরিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, হাটহাজারীর চাষিরা সরবরাহ করেন গোলাপ, গ্লাডিওলাস ও জারবেরা ফুল। এছাড়া থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া থেকে আসে বাহারি রঙের অর্কিড। মোমিন রোডের ফুলের দোকানগুলোতে পাইকারি ও খুচরা ফুল বিক্রি করা হয়। আগামী দুইদিনে ৩০-৩৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ফুলের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রি তুলনামূলকভাবে অনেক কম। উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার দোকানীরা বৃহস্পতি ও শুক্রবারের (১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি) জন্য আগাম চাহিদাপত্র দিয়ে রেখেছেন। বুধবার পাইকারিতে গ্লাডিওলাস ১০০টি ৭০০-১ হাজার টাকা ও প্রতিটি ১৪ টাকা, হলুদ ও কমলা রঙের গাঁদা ফুল ১০০টি ২০০-২৫০ টাকা, বিভিন্ন রঙের গোলাপ ১০০টি ৬০০ টাকা, রজনীগন্ধা প্রতিটি ১৫ টাকা, বিভিন্ন জাতের রঙিন ফুল দিয়ে তৈরি একটি ফ্লাওয়ার বাস্কেট ৩০০ টাকা, বিভিন্ন ফুলের মিশ্রণে সেলোফিন দিয়ে মোড়ানো একটি বুকেট ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা এক আঁটি ৫০-৬০ টাকা, জিপসি এক আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুলের চাষ হওয়ায় নানা ধরনের ফুল নিয়মিত আসছে দোকানগুলোতে। এতে গত একবছরে দামও মোটামুটি কমে এসেছে বলে জানান মোমিন রোডের ফুলের দোকানীরা। হেভেনস ফ্লাওয়ারের একজন বিক্রয় কর্মী জানান, ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত উৎসবে রজনীগন্ধার কলির মালা ও মাথার রিং, গোলাপ ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। ইদানীং একগুচ্ছ জারবেরা কিনতেও ফুল প্রেমীদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

তবে কিছু কিছু মৌসুমী খুচরা বিক্রেতা বিভিন্ন বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে বাড়তি দামে ফুল বিক্রি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব দিনে ১৫০ টাকার মাথার রিং বিক্রি করা হয় ২৫০-৩০০ টাকায়, একটি গোলাপ বিনিময় হয় ৩০-৪০ টাকায়। অথচ দিন শেষে অবিক্রিত ও পচে যাওয়া ফুল ফেলে দেওয়া হয় সড়কে। অবশ্য সমিতির তালিকাভুক্ত কোনো ফুল ব্যবসায়ী ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম রাখছে না বলে দাবি করেছেন নেতারা।

চট্টগ্রাম জেলার দক্ষিণাঞ্চলে পটিয়ার কমলমুন্সির হাট, চন্দনাইশে দোহাজারী, বৈলতলী, ছৈয়দাবাদ, সাতকানিয়ার খাগরিয়া, শঙ্খ নদীর দুই তীর, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এলাকা ও কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় একসময় বিস্তীর্ণ জমিতে ফুলের চাষ হতো। কিন্তু প্লাষ্টিক ফুলের কারণে আসল ফুলের কদর কমে যাওয়ায় অনেকে ফুল চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*