তাজা খবর
হালদা রক্ষার দায়িত্ব কার : প্রশ্ন এমপির

হালদা রক্ষার দায়িত্ব কার : প্রশ্ন এমপির

হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণার প্রাক্কালে এ নদীর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন রাউজানের সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘হালদাকে দেখে ছোট থেকে বড় হয়েছি। ২৪ বছর ধরে হালদাকে নিয়ে কাজ করছি। এখনও পুরোপুরি সফল হতে পারিনি। এ কারণে মনোকষ্টে ভুগি। নিজেকে দোষী মনে হয়। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, এই হালদাকে রক্ষার দায়িত্ব কার?’

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে হালদা রক্ষা কমিটি আয়োজিত এক সেমিনার ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার মুজিববর্ষেই হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, ‘কয়েক বছর আগে দেখলাম পাঁচতারকা হোটেল রেডিশনে হালদা নিয়ে অনুষ্ঠান হচ্ছে। সেদিন কবির বিন আখতাররা ১২টার প্রোগ্রাম শুরু করেন দুই ঘণ্টা পরে। হালদার প্রোগ্রাম যদি এভাবে পাঁচতারকা হোটেলে হয় তাহলে এমনই হবে। হালদাকে নিয়ে প্রোগ্রাম হলে তা নদীর পাড়ে হতে হবে।’

ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএফআরআই) হালদা গবেষণা কেন্দ্র খোলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহে হালদা গবেষণার ল্যাবরেটরি হবে? তারা হালদার কী বুঝবে? হালদা নিয়ে যদি কেউ জানে তারা এই চট্টগ্রামের মানুষ।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী একজন আসবে তিনি মাছ চিনতে চিনতে চলে যাওয়ার সময় হয়ে যায়। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে সচিবরা আসেন ফিশারিজ বিভাগে, তারা আবার যান অর্থ বিভাগে। এসব কারণে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো উন্নয়ন করা যাচ্ছে না।’

এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, ‘হালদা একটি আনটোল্ড স্টোরি। ফিশারিজ দফতর বললো তারা হালদায় পোনা ছাড়বে। কিন্তু মাছের সাইজ হলো ১ ইঞ্চি, যা অন্য রাক্ষুসে বড় মাছ খেয়ে ফেলে। আমি অনেক চেষ্টা করে ১ কেজির নিচে মাছ ছাড়া যাবে না বলে জানালাম। পরিমাণ কী হবে? তারা জানালেন মাত্র তিন লাখ টাকার! যেখানে কোটি টাকার মাছ ছাড়া প্রয়োজন সেখানে নাকি ৩ লাখ টাকার মাছ ছাড়বেন তারা!’

হালদা পাড়ের এই সন্তান বলেন, ‘হালদাকে বাঁচাতে হলে পাহারাদারির ব্যবস্থা করতে হবে। একজনকে দায়িত্ব নিতে হবে। হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করা হলে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও হালদা রক্ষা কমিটির সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত সভাপতি হালদা রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসাইন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী, সংবর্ধিত অতিথি মোহাম্মদ আলী ও চৌধুরী ফরিদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*