তাজা খবর
সূর্য সেনের ১২৬তম জন্মদিন আজ

সূর্য সেনের ১২৬তম জন্মদিন আজ

মাস্টার দা সূর্য সেনের ১২৬তম জন্মদিন আজ । ১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

সূর্য সেন ছেলেবেলা থেকে খুব মনোযোগী ভালো ছাত্র এবং ধর্মভাবাপন্ন গম্ভীর প্রকৃতির ছিলেন। ১৯১২ সালে চট্টগ্রামের নন্দনকাননে অবস্থিত হরিশদত্তের ন্যাশনাল স্কুল থেকে প্রবেশিকা (এন্ট্রান্স) পাস করে চট্টগ্রাম কলেজ হতে এফ এ (এইচএসসি) পাস করেন এবং বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন।

পড়াশোনা শেষ করে চট্টগ্রামে ফিরে এসে আচার্য্য হরিশদত্তের জাতীয় স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। অসহযোগ আন্দোলনের সময় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি দেওয়ানবাজারে বিশিষ্ট উকিল অন্নদা চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত অধুনালুপ্ত ‘উমাতারা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে’ অঙ্কের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এ সময় বিপ্লবী দলের সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীরতর হয়ে ওঠে এবং শিক্ষকতা করার কারণে তিনি ‘মাস্টারদা’ হিসেবে পরিচিত হন।

বিদ্রোহ চলাকালে ১৯২৬ সালে সূর্য সেন পলাতক অবস্থায় কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটের এক মেসে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। সেখান থেকে তাকে মুম্বাইয়ের রত্নগিরি জেলে পাঠানো হয়।

১৯১৬ সালে বহররমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে সূর্য সেন সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী সংগঠন ‘যুগান্তর’ এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে সূর্য সেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী অম্বিকা চক্রবর্তীর সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরের দেওয়ানবাজার দেওয়ানজী পুকুরপাড়ে ‘সাম্য আশ্রম’ প্রতিষ্ঠা করে গোপনে বিপ্লবী কার্যক্রম চালাতে থাকেন।

মহাত্মা গান্ধী ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করলে বিপ্লবী দলগুলো আবার সক্রিয় হয়ে উঠে। তখন চট্টগ্রাম কোর্টের ট্রেজারি থেকে পাহাড়তলীতে অবস্থিত আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন নিয়ে যাওয়া হতো।

১৯২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর টাইগার পাস-এর মোড়ে সূর্য সেনের গুপ্ত সমিতির সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে বেতন বাবদ নিয়ে যাওয়া ১৭,০০০ টাকার বস্তা ছিনতাই করে। ছিনতাইয়ের প্রায় দুই সপ্তাহ পর গোপন বৈঠক চলাকালীন অবস্থায় পুলিশ বিপ্লবীদের আস্তানায় হানা দিলে পুলিশের সঙ্গে বিপ্লবীদের খণ্ডযুদ্ধ হয় যা ‘নাগরখানা পাহাড় খণ্ডযুদ্ধ’ নামে পরিচিত।

ইংরেজ প্রশাসন সূর্য সেনকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় ধরার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখে। ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপন বৈঠকে ছিলেন সূর্যসেন। ব্রজেন সেনের সহোদর নেত্র সেন সূর্য সেনের উপস্থিতির খবর পুলিশকে জানিয়ে দেয়। রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত তুমুল যুদ্বের পর ২টার দিকে অস্ত্রসহ সূর্য সেন এবং ব্রজেন সেন ধরা পড়েন। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি মধ্যরাতে সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

সূর্য সেনকে ব্রিটিশ সেনারা নির্মমভাবে অত্যাচার করে। ব্রিটিশরা হাতুড়ি দিয়ে তার দাঁত ও হাড় ভেঙ্গে দেয়। তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। নিষ্ঠুরভাবে সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের অর্ধমৃতদেহ দুটি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের লাশ আত্মীয়দের হাতে হস্তান্তর করা হয়নি এবং হিন্দু সংস্কার অনুযায়ী পোড়ানো হয়নি। ফাঁসির পর লাশ দুটো জেলখানা থেকে ট্রাকে করে নিয়ে বুকে লোহার টুকরা বেঁধে বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগরসংলগ্ন একটা জায়গায় ফেলে দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*