তাজা খবর
গোপনে পাপ, প্রকাশ্যে বুজুর্গী!

গোপনে পাপ, প্রকাশ্যে বুজুর্গী!

গোপন গুনাহের ব্যাপারে সাবধান থাকা জরুরি। উপরে দীনদারি দেখিয়ে গোপনে গুনাহে লিপ্ত থাকায় অনেক মানুষকে বেঈমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। আরবের প্রখ্যাত আলেম শায়খ আবদুল আযিয আত-তারিফি বলেন, ‘হিদায়াত পাওয়ার পর যত মানুষ পুনরায় জাহিলি জীবনে ফিরে গেছে, তাদের অধিকাংশই এমন কাজের দিকে ঝুঁকে গিয়েছিল, যা তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে করত। তাই গোপনে আপনার দীনদারি বজায় রাখুন এবং আল্লাহ সাথে সৎ থাকুন; তিনি আপনার বাহ্যিক দীনদারি রক্ষা করবেন।’

একটি হাদিস আমাদের সবসময় স্মরণে রাখা উচিত। সাওবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের একদল মানুষ তিহামা পাহাড়ের মত শুভ্র নেক আমল নিয়ে হাজির হবে। কিন্তু আল্লাহ তাদের সেসব নেক আমলকে লাপাত্তা করে দিবেন।’ সাওবান বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাদেরকে তাদের পরিচয় জানিয়ে দিন; যেন অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যাই।’ তিনি বললেন, ‘তারা তোমাদেরই ভাই, তোমাদেরই বংশধর। তারা তোমাদের মত তাহাজ্জুদগুজার। কিন্তু তারা নির্জনে নিভৃতে আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত।’ [ইবনু মাজাহ, আসসুনান : ৪২৪৫]

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন,

يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ

তিনি দৃষ্টিসমূহের খেয়ানত (চোরা চাহনি) এবং বক্ষস্থিত লুক্বায়িত বিষয়েও অবগত। [সুরা মুমিন, ৪০ : ১৯]

মক্কা অথবা মদিনার একজন মুয়াজ্জিন ছিলেন। বাহ্যিকভাবে অনেক বড় বুজুর্গ ছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যু হয়েছিল এমন অবস্থায় যে, সে কুরআনুল কারিমকে অস্বীকার করছিল, নাউজুবিল্লাহ। পরবর্তীতে জানা গেছে যে, সে কুদৃষ্টি থেকে নিজেকে হেফাজত করত না। তার দৃষ্টির লাগাম সে ছেড়ে দিয়েছিল।

সুতরাং গোপন দৃষ্টি, শ্রবণ এবং মুখের গুনাহের ব্যাপারে সাবধান থাকা জরুরি। আল্লাহ কুরআনে বলেন,

مَّا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ

মানুষ মুখ দিয়ে যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধ করার জন্য সদা প্রস্তুত প্রহরী বিদ্যমান রয়েছে। [সুরা ক্বাফ, ৫০ : ১৮]

সুতরাং গিবতের আড্ডা, গান শোনায় মত্ত হওয়া, পর্ন বা মুভি দেখা, হারাম দৃষ্টিপাত সবকিছুর ব্যাপারে আমাদের পূর্ণ সতর্ক থাকা জরুরি।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

أَلَمْ يَعْلَمْ بِأَنَّ اللَّهَ يَرَى
সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন? [সুরা আলাক, ৯৬ : ১৪]

আমাদের অন্তরে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এই একটি আয়াতই যথেষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*