তাজা খবর
`ভার্চুয়াল` বিচারকাজ চালু হচ্ছে আজ

`ভার্চুয়াল` বিচারকাজ চালু হচ্ছে আজ

করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে নিয়মিত আদালত বন্ধ থাকায় আজ সোমবার থেকে ‘ভার্চুয়াল আদালত’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টে বসবে তিনটি বেঞ্চ।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বসবে। এসব আদালতে জামিন আবেদনসহ যে কোনো জরুরি বিষয় শুনানি করা যাবে। তবে সারাদেশে নিম্ন আদালতগুলোতে শুধুমাত্র জামিনের আবেদন শুনানি করা যাবে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। জানা গেছে, সোমবার (১১ মে) থেকেই এই আদালত কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় আইনজীবীরা যদি আজ আবেদন করেন, তাহলেই কেবল বিচারকাজ পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে আবেদন পাওয়ার পর কবে, কখন, কীভাবে শুনানি হবে, সে বিষয়ে সংশ্নিষ্ট বিচারক নির্ধারণ করবেন।

ভার্চুয়াল আদালত কীভাবে শুনানি গ্রহণ করবেন, আদেশ বা রায় দেবেন, আইনজীবীরা কোথায় আবেদন বা মামলা দাখিল করবেন, কীভাবে শুনানি করবেন, সে বিষয়ে ১৪ দফা প্র্যাকটিস নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এসব বিধান হাইকোর্ট রুলসে যুক্ত করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোববার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই সভায় সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেন। এই সভায় বিচারপতিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এটি বিচার বিভাগের ইতিহাসে দ্বিতীয় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত ফুলকোর্ট সভা।

ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থা সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ফুলকোর্ট সভার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে সোমবার থেকেই আদালত কার্যক্রম চালু হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ পৃষ্ঠার প্র্যাকটিস নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেন আবেদনটি জরুরি, তা সংক্ষিপ্তভাবে এক পৃষ্ঠার মধ্যে লিখে সংশ্নিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের অফিসারের ই-মেইলে পাঠাতে হবে আইনজীবীকে। বেঞ্চ অফিসার তা ই-মেইলের মাধ্যমেই বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করবেন। অনুমতি পাওয়ার পর ই-মেইলেই আবেদন দাখিল করতে হবে। সেক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানতে হবে। নিয়ম মেনে আবেদন করার পর তার কপি পাঠানো হবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে। এরপর শুনানির সময় নির্ধারণ করে অনলাইন কার্যতালিকা প্রকাশ করা হবে। কার্যতালিকায় দেওয়া সময় অনুযায়ী শুনানি হবে। আদালত পরিচালনা করতে গিয়ে কোনো অসুবিধা হলে সংশ্নিষ্ট বেঞ্চ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করতে পারবেন।

হাইকোর্টের এখতিয়ার: সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের বেঞ্চে অতি জরুরি সব ধরনের রিট ও দেওয়ানি মোশন এবং তৎ-সংক্রান্ত আবেদনপত্র, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চে অতি জরুরি সব ধরনের ফৌজদারি মোশন ও তৎ-সংক্রান্ত জামিনের আবেদনপত্র এবং বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বেঞ্চে অন্যান্য মামলার শুনানি করা যাবে।

নিম্ন আদালত: দেশের নিম্ন আদালত পরিচালনার বিষয়ে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৬ মে পর্যন্ত আদালত বন্ধ থাকবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাপ্তাহিক ছুটি ও বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত বর্ষপঞ্জিতে ছুটি ব্যতীত বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, বিশেষ জজ আদালতের বিচারক, সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা তার নিয়ন্ত্রণাধীন এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার-২০২০ এবং বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করে শুধুমাত্র জামিন-সংক্রান্ত তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার উদ্দেশ্যে আদালত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।

ভার্চুয়াল আদালত কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আইনজীবীদের অব্যাহত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*