তাজা খবর
করোনা আক্রান্ত পরিবার ‘একঘরে’, ১১ পরিবারে জরুরি পণ্য সরবরাহে বাধা

করোনা আক্রান্ত পরিবার ‘একঘরে’, ১১ পরিবারে জরুরি পণ্য সরবরাহে বাধা

পরিবারের সাত সদস্যের করোনার নমুনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ— এমন খবর পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই বাড়িসহ মোট ১১টি বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়। কিন্তু এতে পরিবারগুলো পড়ে যায় আরেক বিপদে— নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জরুরি ওষুধ নেই বাড়িতে। পরে তারা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে সেগুলো সংগ্রহ করতে চাইলে স্থানীয় প্রভাবশালী জানিয়ে দেন, ওই বাড়িগুলোতে কোনো কিছু পাঠানো যাবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউনে থাকা বাসিন্দাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রভাবশালীদের বাধার মুখে ১১টি পরিবার পড়ে গেছে ভীষণ বিপদে।

এমন ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে। করোনাভাইরাস আক্রান্ত একটি পরিবার ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের অমানবিকভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে সেখানে। প্রভাবশালীদের ভয়ে এ নিয়ে কেউ প্রতিবাদও করতে পারছে না।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাতঘরিয়া গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডের হরিবলি’র বাড়ির নিমাই সাহা সাধারণ ছুটি বাতিল করার পর সম্প্রতি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে রাজশাহী যান। রাজশাহী থেকে সন্দ্বীপে ফিরে আসার পর তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর পুরো পরিবার করোনার নমুনা পরীক্ষা করলে ২১ জুন রাতে ওই পরিবারের ৭ সদস্যের ভাইরাস পজিটিভ হওয়ার খবর দেয় প্রশাসন।

এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২২ জুন থেকে বাড়িটি লকডাউন করে দেওয়া হয়। হরিবলি’র বাড়িতে বসবাস করা ১১টি পরিবারের অধিকাংশই ব্যবসায়ী হওয়ায় তাদের পরিচালনাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখা হয়। তবে আক্রান্তরা শারীরিকভাবে সুস্থবোধ করায় চিকিৎসকের পরামর্শে ২৪ জুন পরিবারের ৭ সদস্যকে আবারো করোনাভাইরাসের টেস্ট করানো হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় টেস্ট রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদর্শী সম্বৌধি চাকমা বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া অপরাধ নয়। তবে আক্রান্তদের সরকারি নির্দেশনায় লকডাউনে থাকতে হবে। সারিকাইত ইউনিয়নের একটি পরিবারের ৭ জন সদস্য করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে। আমরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে আক্রান্তের পরিবার ও তাদের প্রতিবেশীদের লকডাউনের সময়ে সব ধরনের সহযোগিতার নির্দেশনা দিয়েছি। এরপরও কেউ যদি আক্রান্ত পরিবার ও তাদের প্রতিবেশীদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে আমরা প্রশাসনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাস পজিটিভ আসার পর আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে নিত্যপণ্য, কাঁচাবাজার ও ওষুধ সংগ্রহ করছিলেন তারা। কিন্তু স্থানীয় কিছু মানুষ খাবার, কাঁচাবাজার ও ওষুধ আনতে বাধা দিচ্ছে। এমনকি কেউ যদি তাদের জন্য কিছু সরবরাহ করে তাদের মারধর করার হুমকিও দিয়েছে নূর ইসলাম কন্ট্রাকটরসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি।

হরিবলি’র বাড়ির বাসিন্দা শিক্ষক বিকাশ সাহা অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রশাসনিক নির্দেশে আমরা সম্পূর্ণ লকডাউনে রয়েছি। কিন্তু ১১টি পরিবারের জন্য নিত্যপণ্য ও জরুরি ওষুধ সংগ্রহে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থানীয় কিছু মানুষের অমানবিক আচরণে আক্রান্ত ও প্রতিবেশীরা কঠিন সময় পার করছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*