তাজা খবর
দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে শেখ হাসিনার অবস্থান শীর্ষে

দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে শেখ হাসিনার অবস্থান শীর্ষে

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। আর এ সবই হয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির কারণে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যাদুকরী নেতৃত্ব এবং একের পর এক সাহসী পদক্ষেপ কার্যত দেশকে এই অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে গেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সেরা দেশ হিসেবে বাংলাদেশই এখন বিবেচিত হয়। এডিবি, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশকে উপমহাদেশের উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখছে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে সর্বত্রই ডিজিটালাইজেশন, মানবিকতা, শিল্পায়ন, জীবনমানের উন্নয়ন, কৃষি আধুনিকায়নে সাফল্যের শিখরে উঠেছে দেশ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রেখে সামাজিক সমৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে পরিবেশ উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, বন্ধুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি সবক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে গত কয়েক বছরে।

দক্ষিণ এশিয়া তথা সার্কভুক্ত ৮ দেশের (আফগানিস্তানসহ) মধ্যে বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারত যা পারেনি; বাংলাদেশ তা করে দেখিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিকদের জন্য শেখ হাসিনা হয়ে গেছেন একজন অনুকরণীয় নেতৃত্ব। তিনি দেশ-বিদেশের নেতাদের কাছে হয়ে গেছেন আস্থা ও ভরসাস্থল। তার একাগ্রতা, দৃঢ়তা ও চিন্তাশীল নেতৃত্ব দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। পার্বত্য শান্তিচুক্তি, সমুদ্র বিজয়, নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মহাকাশ বিজয়, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নতি, স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা সমুজ্জ্বল হয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় শক্তিধর দেশগুলো নাকানিচুবানি খেলেও শক্ত হাতে তিনি অদৃশ্য ভাইরাস সামাল দিচ্ছেন। অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এখনো আক্রান্ত ও মৃতের হার কম।এ মহামারী সময়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেই রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। উনার সাহসী নেতৃত্বের জন্যই করোনাকালে দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮.২ ধরে সংসদে চলতি অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়েছে। পররাষ্ট্র নীতিতে নিজ দেশের মর্যাদা সমুন্নত রেখে কী প্রতিবেশি, কী ক্ষমতাধর রাষ্ট্র সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখেই বাংলাদেশ উন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশে তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নেতৃত্বে এখনশেখ হাসিনার অবস্থান সবার শীর্ষে।

প্রধানমন্ত্রীর ডায়নামিক লিডারশিপ দেশকে অন্যন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নসহ অনেক বিষয়ে বিশ্বের বহু দেশের কাছে বাংলাদেশ এখন উদাহরণ। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ঝড়-বন্যা-খরা সামাল দেয়ার ক্ষেত্রেও তাই। দেশের উন্নয়ন, বেসরকারি খাততে সহায়তা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধপূর্ণ বিশ্ব রাজনৈতিক পরিমন্ডলে বিদেশনীতিতে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ এমন ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব খুব কম নেতাই দেখাতে পেরেছেন। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেরই প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ ওপেন সিক্রেট।

ব্যতিক্রম শেখ হাসিনা গড়ে তুলছেন ব্যতীক্র বাংলাদেশ। তার দৃরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বটা এখনো রয়ে গেছে। সুপার পাওয়ার চীন ও ভারতের অবস্থান মুখোমুখি। দুই দেশই বাংলাদেশকে অন্য দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষার বিপক্ষে। কিন্তু কৌশলি নেতৃত্ব দিয়ে দুই বিরোধপূর্ণ দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলছে বাংলাদেশ।

ধু কি তাই,পাকিস্তানের সঙ্গেো সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলেছেন তিনি। গার্মেন্টস পণ্যে আমেরিকার জিএসপি সুবিধা বন্ধ। কিন্তু বাংলাদেশ দমে যায়নি; এগিয়ে গেছে। ইউরোপ ছাড়াও তৈরি পোশাকের নতুন নতুন বাজার খুঁজে নিয়েছে।

বাংলাদেশকে উনি এনেছেন আনপ্যারালাল অবস্থায়। অর্থনৈতিকভাবে সবল এবং শক্ত নেতৃত্বের হাতে দেশ। দেশে নানা পথ-মতের মানুষের রাজনীতি থাকলেও শেখ হাসিনা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে দেশ। তার দৃঢ় সিদ্ধান্ত ও সাহসী পদক্ষেপে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ এখন বাস্তব। মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অসংখ্য মেগাপ্রকল্পের কাজ চলছে। দেশে এখন সবকিছুই ডিজিটাল।

ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে অনলাইনে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-মাদরাসার ক্লাস নেয়া হচ্ছে। সর্বত্রই পণ্য কেনাবেচা হয় অনলাইনে। করোনা মহামারীতে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করতে অনলাইনে কোরবানির পশু কেনাবেচার প্রস্তুতি চলছে। শেখ হাসিনার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদার চেয়েও দেশে এখন বেশি উৎপাদন হয়। প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের কুঁড়েঘরে বিদ্যুতের আলোর ঝলকানি। গ্রামাঞ্চলেও এখন ইন্টারনেট-ডিশ লাইন।

তিনি ৩০ বছরের গঙ্গা পানি চুক্তি, পার্বত্য শান্তি চুক্তি, জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্বীকৃতি, মিয়ানমার ও ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে সমুদ্রসীমা বিজয়, ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি, ছিটমহল সঙ্কটের সমাধান করেছেন। তিনি মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে মহানুভবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যার পুরস্কার হিসেবে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ সম্মান অর্জন করেছেন। উনার শিল্পায়নের পাশাপাশি কৃষিতে সাফল্য দেখিয়েছেন। কৃষিতে আধুনিকায়ন এবং নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করায় ধান উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় অবস্থানে উঠতে যাচ্ছে।

ইসলামবিদ্বেষী পশ্চিমারা সব সময় মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত। ফলে ৯২ ভাগ মুসলমানের এই বাংলাদেশে ‘জঙ্গিবাদ’ তকমা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে অপপ্রচার হয়েছে বছরের পর বছর ধরে। নানা ধরনের উস্কানি ছিল। জঙ্গিরা হলি আর্টিজান হত্যাকান্ডসহ বেশ কয়েকটি পৈচাশিক ঘটনাও ঘটিয়েছে। কিন্তু নেত্রীর শক্ত নেতৃত্বে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনীসহ সকল বাহিনীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জঙ্গিদের মেরুদন্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। অনেকের কাছে অপ্রিয় হলেও সত্য, শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে ১৮ কোটি মানুষের দেশ এখন শান্তিপূর্ণ মুসলিম রাষ্ট্র।

এই সাফল্যের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা শেখ হাসিনাকে নানাভাবে সম্মানিত করেছে। তিনি জাতিসংঘের ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ পুরস্কার’, ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কার, আবহাওয়া পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দি আর্থ’ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ পেয়েছেন।

এছাড়াও রাজনীতিতে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নেতৃস্থানীয় ভ‚মিকা পালনে ‘পান ওম্যান ইন পার্লামেন্ট (ডব্লিউআইপি) গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড’, নারী ও শিশু শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ‘শান্তি বৃক্ষ পদক’, ‘সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড’, জাতিসংঘের ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অ্যাওয়ার্ড’, ‘ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড’, ‘কালচারাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড’, ‘গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড’, ‘ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক’, ‘ডক্টরস অব হিউম্যান লেটার্স’, ‘মাদার তেরেসা পদক’, ‘নেতাজি মেমোরিয়াল পদকসহ অর্ধশতাধিক পদক পেয়েছেন।

তিনি বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ডিগ্রি ও সম্মাননা পেয়েছেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যা পেয়েছেন, বাংলাদেশ তো নয়ই; দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো নেতার পক্ষে অর্জন সম্ভব হয়নি। পুরস্কারের পাশাপাশি তিনি নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের কারণে বিভিন্ন স্বীকৃতিও অর্জন করেন। বিশ্বখ্যাত ফোর্বস সাময়িকীর দৃষ্টিতে বিশ্বের ক্ষমতাধর শত নারীর তালিকায় ৩৬তম এবং নিউইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর জরিপে ২০১১ সালে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় সপ্তম স্থান দখল করেন। নেতৃত্বের সাফল্যের জন্য তার আরো অনেক অর্জন রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক দল ও সরকারে সফল নেতৃত্বের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার কার্যত আনপ্যারালাল-অপ্রতিদ্বন্দী। তার রাজনৈতিক কোনো প্রতিদ্বন্দী দেশে  নেই। সংসদে যে বিরোধী দল রয়েছে; সেই জাতীয় পার্টি তার অনুগ্রহে চলে। আর মাঠের বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত বিএনপি হয়ে গেছে  আজ পথহারা পাখি। নেতৃত্বের ভুলে দলটি এখানে-সেখানে মুরুব্বি খুঁজতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেশপ্রেমের সঠিক পথ খুঁজে পাচ্ছে না।

আমাদের সাহসী নেত্রীর নেতৃত্বে ২০২১ সালেই দেশ এগিয়ে যাবে। দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে শেখ হাসিনার অবস্থান শীর্ষে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*