পণ্য খালাসে দেরি করলে গুনতে হবে জরিমানা
শুল্কায়নের ১০ দিনের মধ্যে শুল্ক-কর পরিশোধ সাপেক্ষে পণ্য বন্দর থেকে খালাস নিতে হবে, নইলে গুনতে হবে জরিমানা। কনটেইনার জট কমাতে নতুন কাস্টমস আইনে এ বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি বন্দরে পৌঁছানোর ৫ দিনের মধ্যে পণ্যের ঘোষণা বা বিল অব এন্ট্রি জমার বিধান রাখা হয়েছে, এ নিয়ম ভঙ্গ করলে আমদানিকারককে জরিমানা গুনতে হবে। যদিও বিল অব এন্ট্রি সংশোধনের সুযোগ এবং শুল্ক ফাঁকি উদ্ঘাটনের আগে অপরাধ স্বীকার করলে জরিমানা থেকে অব্যাহতির বিধান রাখা হয়েছে আইনে।
গত ৩১ অক্টোবর জাতীয় সংসদে কাস্টমস আইন ২০২৩ পাশ হয়। আইনের ৩২ ধারায় বলা আছে, আমদানি পণ্যের শুল্ক-কর, চার্জ নির্ধারণের পর তা ১০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এ সময় অতিক্রম করলে শুল্ক-কর পরিশোধের সর্বশেষ তারিখ থেকে খালাসের সময় পর্যন্ত বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে সাধারণ সুদ পরিশোধ করতে হবে। এছাড়াও শুল্ক-কর বকেয়া থাকলে বকেয়া অর্থের ওপরেই ১০ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এতে ব্যবসার খরচ বাড়তে পারে। বর্তমানে বন্দরে পণ্য ফেলে রাখলে কাস্টমসের জরিমানা নেই, শুধু পোর্ট ও শিপিং ডেমারেজ দিতে হয়। নতুন আইনটি কার্যকর হলে কাস্টমসের জরিমানা যুক্ত হবে।
আইনের ৮২ ধারায় বলা আছে, পণ্য ঘোষণা বা বিল অব এন্ট্রিতে দেওয়া তথ্যের সত্যতা, সঠিকতা সম্পর্কে আমদানিকারক-রপ্তানিকারক দায়বদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে পণ্য খালাসে জড়িত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টও দায়ী থাকবে। পণ্যের সঠিকতা যাচাইয়ে কাস্টমস কর্মকর্তা দলিলাদি চাইতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না দিলে সংশ্লিষ্ট আমদানি-রপ্তানিকারককে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
আইনের ৮৪ ধারায় বলা আছে, কাস্টমস স্টেশনে পণ্য নামার পর আমদানিকারককে ৫ দিনের মধ্যে পণ্যের ঘোষণা বা বিল অব এন্ট্রি জমা দিতে হবে। চাইলে পণ্য বন্দরে পৌঁছানোর ৩০ দিন আগেও বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়া যাবে। এ নিয়ম ভঙ্গ করলে আমদানিকারককে সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
উল্লিখিত ধারাগুলোর হয়রানি বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসার খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। যদিও আইনে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার অংশ হিসাবে বেশকিছু নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। যে কারণে আমদানিকারকদের হয়রানি হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।