রাজনীতি

চট্টগ্রাম-৮ আসনের নৌকার মাঝি হতে চান বাচ্চু

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আরশেদুল আলম বাচ্চু। ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

আরশেদুল আলম বাচ্চু বন্দরনগরীর একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবীদ হিসেবে পরিচিত। জনহিতকর কাজের মাধ্যমে এরইমধ্যে সাধারণ মানুষের আপনজন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। মানবতার জন্য রাজনীতি করা এই নেতা করোনাকালীন সময়ে চট্টগ্রামে অসহায় ও দুস্থ মানুষদের জন্য ফ্রি সবজি বাজার নামে বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেন৷ করোনার ভয়ে সবাই যখন নিজ ঘরে আবদ্ধ, লকডাউনে কর্মহীন তখনই নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ান বাচ্চু। প্রতিদিন নিজে উপস্থিত থেকে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে ফ্রি সবজি বাজারের মাধ্যমে বিতরণ করেন হাজার হাজার কেজি সবজি। এ মডেলটি পরে অনেক ব্যক্তি ও সরকারি পর্যায়েও ব্যাপকতা লাভ করে।

এছাড়াও ধর্মীয় উৎসবেও সাধারণ মানুষের পাঁশে দাঁড়ানোটা বাচ্চুর নিয়মিত কার্যক্রম। রমজানের সময় নগরীর মোড়ে মোড়ে ফ্রি ইফতার, শরবত, খেজুর বিতরণ তাঁর প্রতি বছরের একটি নিয়মিত আয়োজন। এছাড়াও ঈদে গরিব দুঃখী অসহায় মানুষকে ঈদ উপহার দিয়ে থাকেন বাচ্চু। অন্যান্য ধর্মের উৎসবগুলো নির্বিঘ্ন করতে সর্বদা নেতাকর্মীদের তৎপর থাকার দীক্ষা দেন তিনি। যে কোনো ধর্মের উৎসবে নিজেও উপস্থিত থাকেন, অভয় দেন এ বাংলায় ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতায় মানুষ ছিল ঘরবন্দী। নিম্ন আয়ের মানুষের উপার্জন বন্ধ৷ অর্ধ ডুবন্ত ঘরে জ্বলছে না উনুন। তখন নিজ হাতে সেসব অসহায় মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন বাচ্চু। টানা কয়েকদিন রান্না করা খাবার নিজে হাঁটু জল ভেঙে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ডুবন্ত মানুষের জন্যও প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুকনো খাবার পৌঁছে দিয়েছেন ট্রাকে ট্রাকে।

বাচ্চুর আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ। চট্টগ্রামের ছাত্র রাজনীতির আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত ওমরগনি এমইএস কলেজের ছাত্র সংসদের জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ছিলেন প্রয়াত কিংবদন্তি নেতা নগর আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর একনিষ্ঠ কর্মী। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন যেকোনো আন্দোলন সংগ্রামে। হরতাল অবরোধের মত জনবিধ্বংসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থেকেছেন রাজপথে। জানমাল রক্ষায় আওয়ামী লীগের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে এখনও আছেন রাজপথে।

সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব আরশেদুল আলম বাচ্চু। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন, সংসদ নির্বাচন, উপ নির্বাচনসহ সমস্ত নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর জন্য কাজ করেছেন দিন রাত। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিটি নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনার আগ পর্যন্ত মাঠে ছিল বিশাল কর্মী বাহিনী। তাই প্রত্যেক প্রবীণ নেতার কাছেও আরশেদুল আলম বাচ্চু এক আস্থার নাম।

তরুণ এই আওয়ামী লীগ নেতা এবার চট্টগ্রাম-৮ সংসদীয় আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

মূলত মানুষের পাশে আরও বেশি করে থাকতেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান বলে জানিয়েছেন তরুণ এই আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণে। আর মানুষের অধিকার, সুখ দুঃখের কথা তুলে ধরার সর্বোত্তম স্থান পবিত্র সংসদ। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই শপথ নিয়েছিলাম আজীবন মানুষের পাশে থাকব। সেই দায়িত্বটা আরও বড় পরিসরে পালনের ব্রত নিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী হয়েছি। বাকি সিদ্ধান্ত জননেত্রী শেখ হাসিনার।’

এরই মধ্যে প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন বাচ্চু। বাড়িয়েছেন জনসম্পৃক্ততা। চষে বেড়াচ্ছেন পুরো এলাকায়। বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল-অবরোধের বিপক্ষে কর্মীদের নিয়ে সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন মাঠে-ময়দানে।

সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাচ্চু আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে নিয়েছেন। তার প্রমাণ পেয়েছে চট্টগ্রামবাসী। চট্টগ্রামের উন্নয়নে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই আগামী নির্বাচনে প্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ইশতেহার ঘোষণা করবেন সেটিই হবে আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার।’

বাচ্চু আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী তাঁর রাজনৈতিক জীবন বিবেচনা করে মনোনয়ন দেবেন। তাই তিনি তাকিয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রীর দিকে।

নির্বাচনে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর জানিয়ে বাচ্চু বলেন, ‘আমাদের আশা ভরসা, চাওয়া পাওয়ার একমাত্র আস্থার জায়গা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটিই চূড়ান্ত। আমরা চট্টগ্রামের সবগুলো আসনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সেটি উপহার দিতে চাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *