চট্টগ্রাম

চা বোর্ড সচিব রুহুল আমীনের দণ্ড

পদবি গোপন করে নিজের ও স্ত্রীর নামে পুরস্কারের জন্য আবেদন করে শাস্তি পেলেন চা বোর্ডের সচিব মো. রুহুল আমীন। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় ইউএনও থাকাকালীন বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার কাণ্ডে তাকে লঘুদণ্ড তিরস্কার করা হয়েছে। গত ৩ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ নিয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, হাটহাজারীর ইউএনও থাকার সময় রুহুল আমীন ২০২২ সালের গত ৫ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলার প্রাক্কালে হীন ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল না হওয়ায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যথাযথ ও আইনসম্মত কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এর মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। তিনি হাটহাজারী উপজেলায় ইউএনও হিসেবে কর্মরত থাকাকালে নিজ পদবি গোপন করে নিজের ও স্ত্রীর নামে ‌‘বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০২২’ এর জন্য আবেদন করেছেন। এ পুরস্কার প্রদান সংক্রান্ত উপজেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে ওই আবেদন জেলা ও বিভাগীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করেছেন। এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে স্বার্থের সংঘাত সংঘটিত হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা অনুযায়ী `` শ্রেণিতে কেবল ইউনিয়ন পরিষদ/উপজেলা পরিষদ/জেলা পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আবেদন করার যোগ্য। সে মোতাবেক উপজেলা পরিষদের সৃজিত ব্লক বাগানের জন্য হাটহাজারী উপজেলা পরিষদের নাম জেলা কমিটি, বিভাগীয় কমিটি, পদক মূল্যায়ন উপ-কমিটি এবং জাতীয় কমিটি কর্তৃক যথাযথ প্রক্রিয়ায় `` শ্রেণিতে পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছে। এ সত্ত্বেও তিনি হীন ব্যক্তিস্বার্থে পুরস্কারের জন্য বিজয়ী নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

`ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ না হওয়ায় ও বদলিজনিত কারণে চূড়ান্ত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কার গ্রহণের সুযোগ না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মিথ্যা তথ্য এবং জাল কার্যবিবরণী সহকারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে ২০২২ সালের ২৮ মে পুরস্কারের আবেদন প্রত্যাহার করে পত্র দিয়েছেন। ওই মিথ্যা তথ্য ও জাল দলিল সরবরাহ করে একাধিক জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করানোর মাধ্যমে মন্ত্রণালয় ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিব্রত করেছেন।`

এজন্য রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে `সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮` অনুযায়ী `অসদাচরণ`-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। পরে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ, ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ, তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তার বিরুদ্ধে আনা `অসদাচরণ`-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তবে তিনি বেশ কয়েকটি বাগান সৃজন করে জনস্বার্থের জন্য ইতিবাচক কাজ করেছেন বিধায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেও তাকে সর্বনিম্ন দণ্ড বা লঘুদণ্ড `তিরস্কার` দেওয়া হয় বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *