চট্টগ্রামহাটহাজারী

হাটহাজারীতে বেড়া নির্মাণের টেন্ডার আহ্বানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক এক সময় ওয়াসার জন্য অধিগ্রহণকৃত জায়গা, পরে অবমুক্তিকৃত স্থানে কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের দরপত্র আহ্বানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে হাটহাজারীর উপজেলার ফতেয়াবাদ চিকনদন্ডী ইউনিয়ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ফতেয়াবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক সমিতি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভূমি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রায়হান মাহমুদ।

সমিতির সভাপতি কাজী এনামুল হক বলেন, ১৯৬২-৬৩ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসা পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তৎকালীন সামরিক সরকারের পক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এলএ ২৫৬/১ নম্বর মামলা মূলে হাটহাজারী দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজার ৫০ একর এবং এল এ ২৫৬/২ মামলা মূলে চিকনদন্ডী মৌজার ২৫ একর ধানী নাল জমি অধিগ্রহণ করে মালিকদের নামমাত্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। যেহেতু ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়নি সেহেতু আইনমতে উক্ত ভূমির চূড়ান্ত অধিগ্রহণ হয়নি। এ সংক্রান্ত জেলা প্রশাসন কোনো গেজেটও প্রকাশ করেনি।

ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা না দিয়ে বা গেজেট প্রকাশ না করে জেলা প্রশাসন অন্য কোনো প্রত্যাশী সংস্থার কাছে উক্ত জমি আইনত হস্তান্তর করতে পারে না। ওয়াসা তড়িঘড়ি করে দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজার হুকুম দখলীয় ৫০ একর আন্দরে ১০ একর জমিতে কৃত্রিম বালির পাহাড়সহ একটা গোডাউন এবং চিকনদন্ডী মৌজার হকুম দখলীয় ২৫ একর জমির আন্দর ১২ একর ভূমিতে দুটি জলাধার খনন করে।

কাজী এনামুল হক বলেন, ১৯৬৪ সালে কর্তৃপক্ষ ফতেয়াবাদ এলাকায় উল্লেখিত প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত পরিত্যাগ করে চট্টগ্রাম নগরের মোহরা এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করে আলোচ্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এরপর ফতেয়াবাদে পরিত্যক্ত প্রকল্পের জমি অবমুক্তের জন্য তৎকালীন ভূমিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করেন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা। এরপর থেকে ভূমি মালিকরা নিজেদের জমিজমা ভোগদখলে নিয়ে চাষাবাদ, বৃক্ষাদি রোপণ করে আসছে। এছাড়া অধিগ্রহণ করা ৭৫ একর জমি ওয়াসা বা জেলা প্রশাসনের দখলেও নেই।

তিনি বলেন, অধিগ্রহণ করা ৭৫ একর জমিতে বিগত ৬০ বছর কিছুই করতে পারেনি ওয়াসা। এই জমি ফতেয়াবাদে নিঃস্ব হওয়া হাজার পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল।

এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন শিক্ষাবিদ আলী নাসের চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে ভূমি মালিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নূরুল আবসার, ফজলুল হক চৌধুরী, আবদুল রহমান, এসএম ইউসুফ খাঁন, মোঃ ইসমাইল, সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন, নাসির উদ্দীন বাহাদুর, আলাউদ্দিন রাজু, আবুল হাসান, শোয়াহবুর রশিদ, মোঃ শফি, মোঃ ইউসুফ, আবদুল মান্নান ও আবু তাহের প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *